সমস্ত লেখাগুলি

অহিংসা: প্রচলিত ধারণা থেকে গান্ধীবাদী ব্যাখ্যা -
Purnendu Bhowmick
Dec. 9, 2025 | category | views:82 | likes:0 | share: 0 | comments:0

অহিংসার প্রচলিত অর্থ


বৌদ্ধ, জৈন এবং হিন্দু দর্শনে অহিংসা সাধারণত সহিংসতার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি হিসেবেই বোঝানো হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে অহিংসা মানে কাউকে আঘাত না করা, প্রাণহানি থেকে বিরত থাকা এবং সংঘাত এড়িয়ে চলা। এই কারণেই অনেক সময় মনে হয়, যুদ্ধ বা চরম সহিংসতার পরিস্থিতিতে অহিংসার কোনো বাস্তব ভূমিকা নেই।


যুদ্ধ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে অহিংসার সীমাবদ্ধতা


যুদ্ধ মানেই যখন সহিংসতা, তখন অহিংসাকে কেবল সহিংসতার অস্বীকার হিসেবে দেখলে তা কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। বাস্তব দুনিয়ায় সহিংসতা এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়। এই সীমাবদ্ধতাই প্রচলিত অহিংসার ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।



---


গান্ধীবাদী কাঠামোতে অহিংসার নতুন অর্থ


সহিংসতার বাস্তবতাকে স্বীকার করা


গান্ধীর কাছে অহিংসা মানে সহিংসতা থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়। তিনি মনে করতেন, সহিংসতা বিশ্বের স্বাভাবিক বাস্তবতারই একটি অংশ। তাই একে পুরোপুরি অস্বীকার করা অবাস্তব। বরং এই বাস্তবতাকে স্বীকার করেই নৈতিক অবস্থান গড়ে তুলতে হবে।


নিষ্ক্রিয়তা নয়, সক্রিয় নৈতিক অংশগ্রহণ


গান্ধীর অহিংসা কখনোই নিষ্ক্রিয় নয়। অনিবার্য সহিংসতার মুখে দাঁড়িয়ে সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হওয়াই তাঁর ভাবনার মূল কথা। এই অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়া নয়, বরং তার ক্ষতিকর প্রভাব যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।



---


সংযম: গান্ধীবাদী অহিংসার কেন্দ্রীয় উপাদান


আবেগ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব


গান্ধী মনে করতেন, সহিংসতার মূল চালিকাশক্তি হলো মানুষের আবেগ, বিশেষ করে রাগ। রাগ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের দিকে ঠেলে দেয় এবং সহিংসতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই অহিংসার চর্চায় আত্মসংযম অপরিহার্য।


সহিংসতার ভেতরে সংযম নিয়ে অবস্থান


গান্ধী মানুষকে আহ্বান জানান সহিংসতার বাইরে দাঁড়িয়ে নয়, বরং তার ভেতরেই সংযম নিয়ে অবস্থান নিতে। এই নৈতিক সাহসই অহিংসাকে প্রকৃত অর্থে কার্যকর করে তোলে।



---


ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক আইনের সঙ্গে যোগসূত্র


গীতা ও মহাভারতের যুদ্ধনীতি


হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ যেমন গীতা ও মহাভারতে যুদ্ধের কথা বলা হলেও সেখানে সংযম, ন্যায় এবং সীমারেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধকে শেষ উপায় হিসেবে গ্রহণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ধ্বংস এড়ানোর নীতি সেখানে স্পষ্ট।


আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে সংযমের ধারণা


আধুনিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেও সহিংসতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযম ও সীমাবদ্ধতার ওপর জোর দেওয়া হয়। গান্ধীবাদী অহিংসা এই প্রাচীন ধর্মীয় ভাবনা ও আধুনিক আইনি কাঠামোর মধ্যে একটি সেতু তৈরি করে।



---


উপসংহার


অহিংসা কেবল সহিংসতার অনুপস্থিতি নয়; বরং সহিংস বাস্তবতার মধ্যেও মানবিকতা, সংযম ও নৈতিক দায়িত্ব বজায় রাখার দর্শন। গান্ধীর ব্যাখ্যায় অহিংসা আমাদের শেখায়—সবচেয়ে হিংস্র প্রেক্ষাপটেও কীভাবে নৈতিক সাহস ও আত্মসংযমের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

বাঙালির আত্মপরিচয় : ইতিহাস, গৌরব ও অভিযাত্রা -
Purnendu BHOWMICK
Sept. 21, 2025 | category | views:468 | likes:40 | share: 0 | comments:0

বাঙালির আত্মপরিচয়ের গল্প শুধু কোনো জাতির ইতিহাস নয়—এ এক অবিরাম যাত্রা, যেখানে জড়িয়ে আছে মানবতা, বিদ্রোহ, সৃজনশীলতা ও স্বাধীনতার অনন্ত স্বপ্ন।


সূচনার আলো

এই যাত্রার শুরু হয়েছিল শ্রীচৈতন্যদেবের মানবতাবাদী বাণী দিয়ে। তিনি বলেছিলেন—

“ধর্ম মানে মানুষের সেবা; জীবনের সঙ্গে জীবনের মিলন।”

এই মরমি ভাবনা আজও বাঙালির আত্মার গভীরে অনুরণিত হয়।

নবজাগরণের পথিকৃৎ

রাজা রামমোহন রায় আধুনিকতার প্রথম আলো এনে দিলেন। তিনি সমাজ সংস্কারে যে সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তা বাঙালিকে এক নতুন যুগের দিকে এগিয়ে নিল। তাঁর পথ ধরে এলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর—শিক্ষা, মানবপ্রেম ও প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা হয়ে।


বিশ্বদরবারে বাংলার পরিচয়

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে পৌঁছে দিলেন বিশ্বমঞ্চে। তাঁর কণ্ঠে বাঙালি পেল বিশ্বজনীনতার পরিচয়। আর সেই ধারাবাহিকতায় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম জাগিয়ে তুললেন স্বাধীনতার অগ্নিশিখা। তাঁর কবিতায় প্রতিধ্বনিত হলো বাঙালির সংগ্রাম ও বিদ্রোহী চেতনা।

পূর্ণতার পথে

এই দীর্ঘ যাত্রার পর বাঙালির আত্মপরিচয় পূর্ণতা পেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। তাঁর হাত ধরে জন্ম নিল স্বাধীন বাংলাদেশ। এক হাজার বছরের স্বপ্ন তখন বাস্তব রূপ পেল—বাঙালি পেল তার নিজস্ব স্বাধীন সত্তা।

বহুমাত্রিক ধারা

বাঙালির আত্মপরিচয় কোনো একক ধারায় সীমাবদ্ধ নয়। বৈদিক যুগের আচার, বৌদ্ধ সহিষ্ণুতা, হিন্দুধর্মের ভক্তি আন্দোলন, সুফিবাদের মরমি দৃষ্টিভঙ্গি—সব মিলেই গড়ে উঠেছে আমাদের বহুত্ববাদী সমাজ। এ কারণেই বাঙালির আত্মপরিচয় এত বৈচিত্র্যময়, এত প্রাণবন্ত।

সমসাময়িক আলোচনায়

সামরুজ ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ “বাঙালির আত্মপরিচয় ও অভিযাত্রা” এই ইতিহাস ও চেতনাকে নতুনভাবে স্মরণ করিয়েছে। তিনি রাজনীতির মানুষ হলেও তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতির গভীর উপলব্ধি। তাঁর মতে—

“বিশ্বজগতের মূল সূত্র হলো বৈচিত্র্য। বৈচিত্র্যের ভেতর দিয়েই সমাজে আসে পরিবর্তন, সংগ্রাম ও সৌন্দর্যের বিকাশ।”


শেষকথা

আজকের দিনে যখন বিশ্বায়নের প্রভাবে জাতিসত্তা বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তখন বাঙালির আত্মপরিচয়ের এই দীর্ঘ যাত্রা আমাদের পথ দেখায়। এটা শুধু ইতিহাস নয়—এ আমাদের গর্ব, প্রেরণা আর আগামী দিনের দিশা।

আমাদের কথা


এই দুর্নিবার সময়েও লেখনী চালিয়ে যাওয়ার মত ধীশক্তি ধরে রেখে মুক্তচিন্তকরা নিরন্তর লিখে চলেছেন। তাঁদের লেখাগুলি সংকলিত করে প্রকাশিত হয়ে চলেছে চেতনার অন্বেষণে পত্রিকা। যা দুই বাংলার পাঠকদের কাছে দ্রুত সমাদৃত হয়। এই পথ চলার একটি ধাপে এসে অন্বেষণ পাবলিশার্স পথ চলা শুরু করেছে মূলত মুক্তচিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্ক বইগুলিকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে। আমাদের কথা বলতে লেখক, পাঠক সবাই মিলিয়েই আমরা।

ওয়েবসাইট প্রসঙ্গে


এটি মূলত বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবাদ চর্চা এবং বইপত্রের প্ল্যাটফর্ম। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যুক্তিবাদীদের লেখার চর্চাকে অনুপ্ররণা যোগাবে। লগইন করে আপনিও লিখতে পারবেন, ওয়েবসাইটটি সমস্ত বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদীদের উদ্দেশ্যে নির্মিত।

যোগাযোগ


Email: yuktibadira@gmail.com

WhatsApp: +91-9433794-113


Website visit count:
93945